সিলিকা (বালু)
সিলিকন ডাই-অক্সাইড (Silicon dioxide): এটি একটি রাসায়নিক যৌগ যা সিলিকনের অক্সাইড। এটি সিলিকা (Silica) নামেও পরিচিত। এর রাসায়নিক সংকেত SiO2। প্রকৃতিতে এটি বালু, কিংবা অর্ধ-মূল্যবান, দানাদার কোয়র্ট্স্ টেমপ্লেট: Quartz আকারে পাওয়া যায়। এছাড়া ডাইঅ্যাটম নামের এক ধরনের শৈবালের কোষপ্রাচীরেও এর দেখা মেলে। সিলিকা ভূ-পৃষ্ঠের সবচেয়ে সহজলভ্য খনিজ পদার্থ।
সিলিকা বিভিন্ন ধরনের কাচ এবং কংক্রিট প্রস্তুতে ব্যবহার করা হয়।
সিলিকা জেল পানি শুষে নেয়। আদ্রতা শুষে নেয়।
ধানের তুষ পুড়িয়ে সিলিকা উৎপাদন করা যায়। তুষ পোড়া ছাই প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হচ্ছে সিলিকন ডাই–অক্সাইড বা সিলিকা পাউডার। গাড়ির টায়ার, টুথপেস্ট, প্রসাধনী, রংসহ নানা শিল্পে ব্যবহার হয় এই পাউডার।
তুষ থেকে সিলিকা উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেল, ধানের তুষ পোড়ানের পর যে ছাই পাওয়া যায় তা ডাইজেস্টারের মাধ্যমে কস্টিক সোডা ও মিনারেল পানি দিয়ে ডাইজেশন (অনবরত নাড়ানো) করা হয়। প্রক্রিয়াটি এক থেকে দেড় ঘণ্টা চালানো হয়। সেখানে যে মিশ্রণটি পাওয়া যায়, তা প্রেস ফিল্টারে (চাপ প্রয়োগ মেশিন) নিয়ে প্রেস করা হয়। সেখান থেকে সোডিয়াম সিলিকেট পাওয়া যায়। সোডিয়াম সিলিকেট চলে যায় রিঅ্যাকটর মেশিনে। সেখানে কার্বন ডাই–অক্সাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তৈরি হয় তরল সিলিকন ডাই–অক্সাইড। তরল পদার্থটি দুই থেকে তিন মাইক্রন ছাঁকনি দ্বারা ছেকে নেওয়া হয়। ছাঁকনি থেকে প্রাপ্ত বর্জ্যটি ড্রায়ারের মাধ্যমে শুকিয়ে সিলিকন ডাই–অক্সাইড পাউডার তৈরি করে বাজারজাত করা হয়।
বালুতে যখন চুম্বক নিয়ে যাওয়া হয় তখন তাতে magnetite (Fe3O4) or hematite (Fe2O3) লেগে থাকে।
No comments:
Post a Comment