Friday, May 31, 2024

পাইরোলুসাইট খনিজ (Pyrolusite mineral)

 


Pyrolusite (mineral) মূলত ম‌্যাঙ্গানিজের খনিজ উপাদান যা manganese dioxide (MnO2) নামে পরিচিত। এই উপাদানটি অনেকগুলো খনিজ উপাদানের সাথে একসাথে থাকে।

Pyrolusite is used in the manufacture of steel and manganese bronze; in dry cells; and as a decolorizing agent in glass.

প্রতি কেজি Pyrolusite (mineral) প্রায় ১০০০ টাকা।

Thursday, May 30, 2024

বিজ্ঞানী কার্ল উইলহেল্ম শীলে (Carl Wilhelm Scheele)

 বিজ্ঞানী কার্ল উইলহেল্ম শীলে (Carl Wilhelm Scheele): ( 1742- 1786) ছিলেন একজন জার্মান-সুইডিশ রসায়নবিদ যে স্বাধীনভাবে অক্সিজেন (oxygen),ক্লোরিন (chlorineএবং ম্যাঙ্গানিজ (manganeseআবিষ্কার করেন। বার্গম‌্যান ১৭৭৪ সালে শীলেকে  pyrolusite (mineral) এর উপর গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের আহবান জানান।

ছত্রাক (Fungus) Aspergillus niger



Aspergillus niger এক ধরনের ছত্রাক। যা লেবু থেকে সাইট্রিক এসিড আলাদা করার জন্য ব্যবহৃত হয়। 

লেবু (Lemon)

লেবু (Lemon)

লেবুর রসে প্রায় ২.২ পিএইচ এর প্রায় ৫% থেকে ৬% সাইট্রিক অ্যাসিড, যার কারণে এটি টক স্বাদযুক্ত হয়।

সাইট্রিক অ্যাসিড একটি দুর্বল জৈব অম্ল। এটির রাসায়নিক সংকেত হলো C6H8O7। সাইট্রিক অ্যাসিড ১৭৮৪ সালে রসায়নবিদ কার্ল উইলহেল্ম শীলে সর্বপ্রথম লেবুর রস থেকে কেলাসিত অবস্থায় আলাদা করেন।

Sunday, May 19, 2024

সিলিকা (বালু)

সিলিকা (বালু)

সিলিকন ডাই-অক্সাইড (Silicon dioxide): এটি একটি রাসায়নিক যৌগ যা সিলিকনের অক্সাইড। এটি সিলিকা (Silica) নামেও পরিচিত। এর রাসায়নিক সংকেত SiO2। প্রকৃতিতে এটি বালু, কিংবা অর্ধ-মূল্যবান, দানাদার কোয়র্ট্‌স্‌ টেমপ্লেট: Quartz আকারে পাওয়া যায়। এছাড়া ডাইঅ্যাটম নামের এক ধরনের শৈবালের কোষপ্রাচীরেও এর দেখা মেলে। সিলিকা ভূ-পৃষ্ঠের সবচেয়ে সহজলভ্য খনিজ পদার্থ।

সিলিকা বিভিন্ন ধরনের কাচ এবং কংক্রিট প্রস্তুতে ব্যবহার করা হয়।

সিলিকা জেল পানি শুষে নেয়। আদ্রতা শুষে নেয়।

ধানের তুষ পুড়িয়ে সিলিকা উৎপাদন করা যায়। তুষ পোড়া ছাই প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হচ্ছে সিলিকন ডাই–অক্সাইড বা সিলিকা পাউডার। গাড়ির টায়ার, টুথপেস্ট, প্রসাধনী, রংসহ নানা শিল্পে ব্যবহার হয় এই পাউডার।

তুষ থেকে সিলিকা উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেল, ধানের তুষ পোড়ানের পর যে ছাই পাওয়া যায় তা ডাইজেস্টারের মাধ্যমে কস্টিক সোডা ও মিনারেল পানি দিয়ে ডাইজেশন (অনবরত নাড়ানো) করা হয়। প্রক্রিয়াটি এক থেকে দেড় ঘণ্টা চালানো হয়। সেখানে যে মিশ্রণটি পাওয়া যায়, তা প্রেস ফিল্টারে (চাপ প্রয়োগ মেশিন) নিয়ে প্রেস করা হয়। সেখান থেকে সোডিয়াম সিলিকেট পাওয়া যায়। সোডিয়াম সিলিকেট চলে যায় রিঅ্যাকটর মেশিনে। সেখানে কার্বন ডাই–অক্সাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তৈরি হয় তরল সিলিকন ডাই–অক্সাইড। তরল পদার্থটি দুই থেকে তিন মাইক্রন ছাঁকনি দ্বারা ছেকে নেওয়া হয়। ছাঁকনি থেকে প্রাপ্ত বর্জ্যটি ড্রায়ারের মাধ্যমে শুকিয়ে সিলিকন ডাই–অক্সাইড পাউডার তৈরি করে বাজারজাত করা হয়।


বালুতে যখন চুম্বক নিয়ে যাওয়া হয় তখন তাতে magnetite (Fe3O4) or hematite (Fe2O3) লেগে থাকে।

বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক জীবনকাল ও বিজ্ঞানের ইতিহাস

বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক জীবনকাল ও বিজ্ঞানের ইতিহাস

বিজ্ঞানীদের জীবনীর সাথে বিজ্ঞানের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে জানতে হলে তাদের নামের উপর ক্লিক করুন।

১। থ্যালাস (৬২৪-৫৫০ খৃ পূর্ব

২। আর্যভট্ট (৪৭৬- খৃ পূর্ব)

৩। হিপোক্রেটস (৪৬০-৩৭০ খৃ পূর্ব) 

৪। এরিস্টটল (৩৮৪-৩২২ খৃ পূর্ব)

৫। ইউক্লীড ( ৩০০ খৃ পূর্ব) 

৬। আর্কিমিডিস (২৮৭-২১২ খৃ পূর্ব)

৭। টলেমী (১৩০-২০০ খৃ পূর্ব) 

৮। সাই লুন (১৫০- খৃ পূর্ব ) 

৯। জাবির ইবনে হাইয়ান (৭২২-৮০৩)

১০। আল বাত্তানী ( ৮৫৮-৯২৯) 

১১। আল বেরুনী ( ৯৭৩-১০৪৮)

১২। ইবনে সিনা (৯৮০-১০৩৭)

১৩। ভাস্করাচার্য (১১১৪-১১৮৫)

১৪। ইবনে রুশদ ( ১১২৬-১১৯৯)

১৫। রজার বেকন ( ১২১৪-১২৯৪)

১৬। জোহান্স গুটেনবার্গ (১৪০০-১৪৬৮) 

১৭। ক্রিস্টোফার কলম্বাস (১৪৫১-১৬০৫) 

১৮। নিকোলাস কোপারনিকাস ( ১৪৭৩-১৫৪৩)

১৯। আন্দ্রিয়াস ভেসালিয়াস (১৫১৪-১৫৬৪)

২০।  টাইকো ব্রাহে (১৫৪৬-১৬০১)

 ফ্রান্সিস বেকন (১৫৬১-১৬২৬) 

 গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২)

 জোহন কেপলার (১৫৭১-১৬৩০) 

 উইলিয়াম হার্ভে (১৫৭৮-১৬৫৭) 

 ইভানজেলিস্টা টরিসেলি (১৬০৮-১৬৪৭)

 ব্লাইস প্যাসকেল ( ১৬২৩-১৬৬২)

 রবার্ট বয়েল (১৬২৭-১৬৯১)

 লিউয়েন হুক (১৬৩২-১৭৩৩)

 স্যার আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২-১৭১৭)

 অ্যাডমন্ড হ্যালি (১৬৫৬-১৭৪২)

 বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন (১৭০৬-১৭৯০)

 ক্যারোলাস লিনিয়াস ( ১৭০৭-১৭৭৮)

 হেনরি ক্যাভেন্ডিশ (১৭৩১-১৮১০) 

 রিচার্ড আর্কারাইড (১৭৩২-১৭৯২) 

 যোসেফ প্রিস্টলি ( ১৭৩৩-১৮০৪)

 জেমস ওয়াট (১৭৩৬-১৮১৯

 লুইজি গ্যালভানি (১৭৩৭-১৭৯৮)

উইলিয়াম হার্শেল (১৭৩৮-১৮২২) 

কার্ল উইলহেল্ম শীলে (Carl Wilhelm Scheele)

এন্টনি লরেন্ট ল্যাভোশিয়ে ( ১৭৪৩-১৭৯৪) 

ব্যারন জনস জ্যাকব বার্জেলিয়াস (১৭৭৯-১৮৪৮)

আলেকসান্দ্রো ভোল্ট ( ১৭৪৫-১৮২৭)

 পিয়ের লাপ্লাস (১৭৪৯-১৮২৭)

 এড‌ওয়ার্ড জেনার (১৭৪৯-১৮২৩)

 হ্যানিম্যান (১৭৫৫-১৮৪৩) 

 জন ডাল্টন ( ১৭৬৬-১৮৪৪)

 ফ্রিডরিখ গাউস ( ১৭৭৭-১৮৫৫) 

 হাম ফ্রে ডেভি (১৭৭৮-১৮২৯)

 মাইকেল ফ্যারাডে ( ১৭৯১-১৮৬৭)

জোসেফ হেনরি (১৭৯৭-১৮৭৮)

 চার্লস ডারউইন (১৮০৯-১৮৮২) 

 হারবার্ট স্পেনসার (১৮২০-১৯০৩)

 জোহান মেন্ডেল ( ১৮২২-১৮৮৪)

 লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫)

 লর্ড ক্যালভিন (১৮২৪-১৯০৭) 

 যোসেফ লিস্টার ( ১৮২৭-১৯১২) 

জেমস ক্লার্ক ম্যাক্স‌ওয়েল (১৮৩১-১৮৭৯) 

 আলফ্রেড নোবেল ( ১৮৩৩-১৮৯৬)

 রবার্ট কখ ( ১৮৪৩-১৯১০)

 কনরাড রন্টজেন (১৮৪৫-১৯২৩)

 টমাস আলভা এডিসন (১৮৪৭-১৯৩৭) 

 আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ( ১৮৪৭-১৯২২)

 হেনরী বেকরেল (১৮৫২-১৯০৮)

 জর্জ ইস্টম্যান (১৮৫৪-১৯৩২)

 ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ( ১৮৫৮-১৯৪৭)

 রুডলফ ডিজেল (১৮৫৮-১৯১৩)

 জগদীশ চন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭)

 পিয়ের কুরি (১৮৫৯-১৯০৬)

 আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় (১৮৬১-১৯৪৪)

 মেরী কুরী (১৮৬৭-১৯৩৪)

 অরভিল রাইট (১৮৭১-১৯৪৮) ও উইলবার রাইট (১৮৬৭-১৯১২) 

 লর্ড রাদারফোর্ড ( ১৮৭১-১৯৩৭)

 গুলিয়েলমো মার্কোনী ( ১৮৭৪-১৯৩৭)

 অটো হ্যান (১৮৭৯-১৯৬৮) 

 আলবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫) 

 আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (১৮৮১-১৯৫৫)

হাচিং গডার্ড (১৮৮২-১৯৪৫)

নীলস বোর ( ১৮৮৫-১৯৬২) 

জন লগি বেয়ার্ড (১৮৮৮-১৯৪৬)

চন্দ্র শেখর ভেঙ্কটরমন ( ১৮৮৮-১৯৭০) 

এডুইন হাবল ( ১৮৮৯-১৯৫৩)

কুদরাত এ খুদা ( ১৮৯০-১৯৭৭)

মেঘনাথ সাহা ( ১৮৯৩-১৯৫৬)

জর্জ লেমিটার ( ১৮৯৪-১৯৬৬) 

সত্যেন্দ্রনাথ বসু ( ১৮৯৪-১৯৭৪)

সলিম আলী ( ১৮৯৬-১৯৮৭)

কার্ল হাইজেনবার্গ (১৯০১-১৯৭৬)

এনরিকো ফার্মি ( ১৯০১- ১৯৫৪)

ওয়াল্ড ডিজনী (১৯০১-১৯৬৬) 

এড‌ওয়ার্ড টেলার (১৯০৮- ) 

হোমি ভাবা (১৯০৯-১৬৬৬)

এস চন্দ্র শেখর ( ১৯১০-) 

ডা মোহাম্মদ ইব্রাহিম (১৯১১-১৯৮৯)

হরগোবিন্দ খুরানা (১৯২২-) 

আব্দুস সালাম ( ১৯২৬-)

স্টিফেন হকিং (১৯৪২-)

(এ বিষয়ে কাজ চলছে........)

Saturday, May 18, 2024

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা

 বিজ্ঞান

 বিজ্ঞান হলো প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান ।   পর্যবেক্ষণ ও পরিক্ষা- নিরীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্যে ভিত্তিতে প্রাকৃতিক ঘটনা ব্যাখ্যা ও বর্ণনা করাই বিজ্ঞানের কাজ। আর এ বিশেষ জ্ঞানকে কিভাবে মানুষ কাজে লাগাতে পারে তাই মানুষের সাধনা। যেকোন জ্ঞান বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আগে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

 ধাপসমূহ:  সমস্যা নির্বাচন --------> বিদ্যমান তথ্য সংগ্রহ--------> পর্যবেক্ষণ -------->পরীক্ষা নিরীক্ষা -------> উপাত্ত বিশ্লেষণ---------> ফলাফল

প্রথমত সমস্যা চিহ্নিত করতে হয়।

দ্বিতীয়ত প্রশ্ন করতে হয়। কি হচ্ছে? কিভাবে হচ্ছে?

তৃতীয়ত নিজের অনুমানকে যাচাই-বাছাই করতে হয়।

চতুর্থত প্রাপ্ত ফলাফলকে লিখে রাখতে হয়। 

পঞ্চমত ফলাফল সম্পর্কে জ্ঞান অপরের সাথে বিনিময় করতে হয়। অপর ব্যাক্তি যদি সেই জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারে তাহলে সেটা বিজ্ঞান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 প্রযুক্তি 

 প্রযুক্তি হলো আমাদের জীবনের বাস্তব সমস্যা সমাধানের জন্য বিজ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ। 


অধ্যায় -২ : মিশ্রণ

 চলো রসায়ন বিজ্ঞান শিখি 

   অধ্যায় -২ : মিশ্রণ

মিশ্রণ

দৈনন্দিন আমরা নানা রকমের জিনিস ব্যবহার করি। এদের মধ্যে কিছু বিশুদ্ধ কিছু মিশ্রণ। মিশ্রণের মধ্যে কোনোটি দ্রবণ , কোনোটি সাসপেনসন আর কোনোটি কলয়েড। সমসত্ত্ব মিশ্রণে উপাদান গুলো আলাদা করা যায় না। মিশ্রণের উপাদানগুলো সহজে আলাদা করা গেলে তাকে অসমসত্ত্ব মিশ্রণ বলে। দ্রব‌ ও দ্রাবক মিশ্রণে যে জিনিসটি বেশি থাকে এবং দ্রবীভূত করে তাকে দ্রাবক বলে।আর যেটি কম পরিমাণে থাকে এবং দ্রবীভূত হয় তাই দ্রব । দ্রাবক + দ্রব = দ্রবণ 

জলীয় দ্রবণ

পানি দ্রাবক হিসেবে থাকলে মিশ্রণটিকে জলীয় দ্রবণ বলে। দ্রাবক হিসেবে এসিটোন,স্পিরিট, ইথার ব্যবহৃত হয়।


দ্রবণের ঘনমাত্রা (পাতলা ও ঘন দ্রবণ) সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত দ্রবণ 

একটি পাত্রে পানি ঢেলে তাতে ক্রমাগত লবণ মিশাতে থাকলে একসময় দেখা যাবে আর লবণ মেশানো যাচ্ছে না। অর্থাৎ পাত্রে যেটুকু পানি আছে তার লবণ দ্রবীভূত করার ক্ষমতা একটি সময় পর আর থাকে না। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবক সর্বোচ্চ যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত করতে পারে সেই পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে প্রাপ্ত দ্রবণকে সম্পৃক্ত দ্রবণ বলে।

পক্ষান্তরে কোনো দ্রবণে যদি সম্পৃক্ত দ্রবণের চেয়ে কম দ্রব দ্রবীভূত থাকে তাহলে সেই দ্রবণকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলে। অসম্পৃক্ত দ্রবণে ক্রমাগত দ্রব যোগ করে সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি করা হয়।

কোন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম দ্রাবক দিয়ে কোন দ্রবের সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি করতে যতটুকু দ্রবের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ দ্রাবকে ঐ দ্রবের সম্পৃক্ত দ্রবণ বলে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম পানি সর্বোচ্চ ৩৬ গ্রাম লবণকে দ্রবীভূত করতে পারে।

তরল - কঠিন দ্রবণ

যেসব দ্রবণে দ্রাবক হিসেবে তরল পদার্থ ও দ্রব হিসেবে কঠিন পদার্থ ব্যবহৃত হয় তাকে তরল- কঠিন পদার্থ বলে। তরল-তরল দ্রবণ দ্রাবক ও দ্রব উভয়‌ই তরল পদার্থ হলে ঐ দ্রবণকে তরল - তরল দ্রবণ বলা হয়। লেবু ও পানির মিশ্রণ একটি তরল-তরল দ্রবণ।

তরল- গ্যাস দ্রবণ

কোমল পানীয়তে দ্রাবক হিসেবে পানীয় ও দ্রব হিসেবে গ্যাস ব্যবহৃত হয়।এটি একটি তরল - গ্যাসীয় দ্রবণ। দ্রবণে তাপের প্রভাব তাপ প্রয়োগে দ্রবণের দ্রবণীয়তা বাড়ে।তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দ্রবণীয়তা কমে। পানিতে লবণের দ্রবণীয়তা তাপমাত্রা বাড়লে দ্রবণীয়তা বাড়ে।আবার সিরিয়াম সালফেট ও ক্যালসিয়াম সারফেট মিশ্রণের তাপমাত্রা তাপ বৃদ্ধির সাথে সাথে কমে যায়।

সর্বজনীন দ্রাবক

সর্বজনীন দ্রাবক হলো পানি। পানি অধিকাংশ দ্রবকে দ্রবীভূত করতে পারে। অসমসত্ত্ব মিশ্রণ প্রস্তুতি ও পৃথকীকরণ বাষ্প তরলে পরিণত হ‌ওয়ার প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন বলে। মাটি ও পানির ঘোলাটে মিশ্রণ কিছু সময় রেখে দিলে উপাদানসমূহ আংশিক আলাদা হয়ে যায়। এই মিশ্রণটিকে সাসপেনসন বলে। কোন দ্রবণের অতি ক্ষুদ্র কণা যারা উপরের দিকে মিশ্রিত হয়ে ভাসমান থাকে কখনো তলানিতে জমা হয় না।এই মিশ্রণটি কলয়েড মিশ্রণ। দুধ একটি কলয়েড মিশ্রণ । দুধে পানি ও চর্বির কণাগুলো কলয়েড আকারে মিশ্রিত থাকে। কুয়াশা ও আরোসল স্প্রে কলয়েড মিশ্রণ। কলয়েড কণাগুলোর আকার ১-১০০০ ন্যানোমিটার হয়ে থাকে। কণাগুলোর আকার ১ মাইক্রোমিটার এর বেশি হলে দ্রবণটি সাসপেনশনের পরিণত হয়।

অধ্যায় -৩ : শক্তি

  চলো পদার্থবিজ্ঞান শিখি 

                    অধ্যায় -৩ : শক্তি

 শক্তি

কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। আমরা সাইকেল চালাতে শারীরিক শক্তি ব্যবহার করি। কম্পিউটার চালাতে বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করি। 

 বিভিন্ন প্রকার শক্তি

 যান্ত্রিক শক্তি 

 শারীরিক শক্তি,বায়ু শক্তি, চলন্ত গাড়ির শক্তি এসব যান্ত্রিক শক্তি। 

 চৌম্বক শক্তি

 তড়িৎ চুম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভারি পদার্থ উত্তলন করা হয়।তড়িৎ চুম্বক শক্তির সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

 বিদ্যুৎ ও চুম্বকের ঘটনা

 চুম্বক যে সকল পদার্থকে আকর্ষণ করে তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলা হয়। লোহা, কোবাল্ড, ইস্পাত ইত্যাদি চৌম্বক পদার্থ। কপার, অ্যালুমিনিয়াম, সিলভার ,পিতল অচুম্বক পদার্থ। বিদ্যুতের সাহায্যে পেরেককে চুম্বকে রুপান্তর পেরেককে তারে পেঁচিয়ে তারের দুই প্রান্ত একটি ব্যাটারীর (🔋) দুই প্রান্তে সংযোগ দিলে পেরেকটি চুম্বকের মত আচরণ করে।

 

পারমাণবিক শক্তি 

পরমাণু্কে ভেঙ্গে তার অভ্যন্তরের বিশাল শক্তিকে কাজে লাগানো হয়।এই শক্তি পারমাণবিক শক্তি বলা হয়। পারমাণবিক শক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ ও পারমাণবিক বোমা ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা হয়। বিদ্যুৎ শক্তি বিদ্যুত দিয়ে গাড়ি টেলিভিশন, কম্পিউটার,ফ্যান,এসি চালানো বিদ্যুৎ শক্তির উদাহরণ। 

শব্দ শক্তি 

 শব্দকে কাজে লাগিয়ে অনেক কাজ করা যায়। শব্দ কম্পন শক্তি সৃষ্টি করে। কম্পনের ফলে শব্দের উৎপত্তি হয়। শব্দ শোনার অনুভূতি সৃষ্টি করে। শব্দ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে রেডিও, টেলিফোন ও মোবাইল আবিষ্কার করা হয়েছে। শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। শব্দ সবচেয়ে বেশি চলে কঠিন মাধ্যমে। তারপর তরল মাধ্যমে। সবচেয়ে ধীরে চলে বায়বীয় মাধ্যমে। বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৪৩ মিটার/সেকেন্ড পানিতে শব্দের বেগ ১৪১৬ মিটার/সেকেন্ড কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ ৬৪২০ মিটার/সেকেন্ড রাসায়নিক শক্তি বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে শক্তি লুকিয়ে থাকে।এ শক্তি রাসায়নিক শক্তি। খাবার, জ্বলানী তেল, গ্যাস ,কয়লা এদের মধ্যে রাসায়নিক শক্তি সঞ্চিত থাকে। 

সৌর শক্তি

 সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে সৌর প্যানেলের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এছাড়া আতশী কাঁচে ব্যবহৃত উত্তল লেন্সের সাহায্যে সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে আগুন ধরানো যায়। শক্তির উৎস সকল শক্তির উৎস সূর্য। বিদ্যুৎ শক্তির উৎস হতে পারে সৌর প্যানেল, জেনারেটর,ব্যাটারী। শক্তির রুপান্তর শক্তি এক রুপ হতে অন্য রুপে রুপান্তরিত হয়। যেমন বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে শব্দ শক্তি, তাপশক্তি,আলোক শক্তি উৎপাদন করা যায়। তাপ শক্তি তাপ এক প্রকার শক্তি। 

তাপশক্তি

 তাপমাত্রা আগুন, হিটার, বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি তাপশক্তি সৃষ্টি করে।

 

শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি 

এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় যে পরিমাণ শক্তি ছিল আজ‌ও সেই পরিমাণ শক্তি আছে। শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না । শক্তিকে কেবল এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রুপান্তর করা যায়। এটাই শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি।

অধ্যায় -১ : পদার্থসমুহ

চলো পদার্থ বিজ্ঞান শিখি  

অধ্যায় -১ : পদার্থ

পদার্থ 

আমাদের চারপাশে‌ নানা বস্তু রয়েছে। যেমন কাগজ, কাঠ, বায়ু, মাটি, চুন, লবন, পানি, পাথর, সোনা, রুপা, তামা, সিসা, লোহা ইত্যাদি। এ সব কিছুই পদার্থ। সকল বস্তুই পদার্থ দিয়ে তৈরি। আমরা যা কিছু দেখতে পাই তা দুই ধরনের। এগুলো হলো পদার্থ ও শক্তি। 

পদার্থের গঠন 

খালি চোখে দেখা যায় না এমন সুক্ষ্ম কণা দিয়ে পদার্থ গঠিত। পদার্থের এই সুক্ষ্ম কণাই হলো পরমাণু। দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রিত হয়ে অণু গঠন করে। আর অনেক অণু নিয়ে এক একটি পদার্থ গঠিত। পদার্থ হলো অসংখ্য অণুর সমষ্টি। 

পদার্থের অবস্থা 

যে কোন পদার্থ তিন অবস্থা থাকতে পারে। তথা কঠিন, তরল, বায়বীয় অবস্থা। পদার্থে তাপ প্রয়োগ করলে এবং পদার্থ থেকে তাপ কমালে বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন হয়। যেমন পানি বরফ, তরল, বাষ্প এই তিন অবস্থায় থাকে। বরফকে তাপ দিয়ে পানিতে রুপান্তরিত করা যায়। আবার পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিবর্তন করা যায়। পদার্থে তাপ প্রয়োগ করলে অণুগুলো একে অপর থেকে দূরে সরে যায়। অনুগুলোর পারস্পরিক দূরত্ব বাড়তে থাকে। অর্থাৎ বরফের মধ্যে পানির অনুগুলো গাদাগাদি করে থাকে। এদের মধ্যে বন্ধন বেশি জোরালো থাকে। তরলের মধ্যে অণুগুলো একটু দূরত্বে অবস্থান করে।ফলে অণুগুলো চলাচল করতে পারে। আর বাষ্পীয় অবস্থায় অণুগুলো সবচেয়ে বেশি দূরত্বে অবস্থান করে। তাই বাষ্প তরলের চেয়ে বেশি চলাচল করতে পারে। 

পদার্থের বৈশিষ্ট্য 

পদার্থকে ভালভাবে লক্ষ্য করলে কিছু বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। এদের ওজন, আয়তন, আকার রয়েছে।

ওজন 

কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যত জোরে টানছে তাই হলো বস্তুটির ওজন। পদার্থের ওজন মাপা হয় দাড়িপাল্লা, ডিজিটাল পাল্লার সাহায্যে।

আয়তন

 পদার্থ জায়গা দখল করে। তেমন একটি ব‌ই টেবিলের উপর জায়গা দখল করে। যখন পদার্থ কোনো জায়গায় দখল করে, ওই জায়গাটি এক‌ই সাথে অন্য কোনো পদার্থ দখল করতে পারে না। কোন পদার্থ যে পরিমাণ জায়গা দখল করে তাকে তার আয়তন বলে। 

বায়ু 

বায়ু একটি যৌগিক পদার্থ। বায়ুর ওজন আছে এবং জায়গা দখল করে। পৃথিবীতে বায়ু যতটুকু জায়গা জুড়ে আছে তাকে বায়ুমণ্ডল বলে। বায়ুতে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, হিলিয়াম,নিয়ন,কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্তরের বায়ুতে যে উপাদানগুলো থাকে।

এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মৌলিক পদার্থ সমূহের তালিকা:

পারমাণবিক

 সংখ্যা

প্রতীক

মৌলের নাম

H

হাইড্রোজেন

He

হিলিয়াম

Li

লিথিয়াম

Be

বেরিলিয়াম

B

বোরন

C

কার্বন

N

নাইট্রোজেন

O

অক্সিজেন

F

ফ্লোরিন

১০

Ne

নিয়ন

১১

Na

সোডিয়াম

১২

Mg

ম্যাগনেসিয়াম

১৩

Al

অ্যালুমিনিয়াম

১৪

Si

সিলিকন

১৫

P

ফসফরাস

১৬

S

সালফার

১৭

Cl

ক্লোরিন

১৮

Ar

আর্গন

১৯

K

পটাশিয়াম

২০

Ca

ক্যালসিয়াম

২১

Sc

স্ক্যান্ডিয়াম

২২

Ti

টাইটানিয়াম

২৩

V

ভ্যানাডিয়াম

২৪

Cr

ক্রোমিয়াম

২৫

Mn

ম্যাঙ্গানিজ

২৬

Fe

আয়রন

২৭

Co

কোবাল্ট

২৮

Ni

নিকেল

২৯

Cu

কপার

৩০

Zn

জিংক

৩১

Ga

গ্যালিয়াম

৩২

Ge

জার্মেনিয়াম

৩৩

As

আর্সেনিক

৩৪

Se

সেলেনিয়াম

৩৫

Br

ব্রোমিন

৩৬

Kr

ক্রিপ্টন

৩৭

Rb

রুবিডিয়াম

৩৮

Sr

স্ট্রনশিয়াম

৩৯

Y

ইট্রিয়াম

৪০

Zr

জিরকোনিয়াম

৪১

Nb

নাইওবিয়াম

৪২

Mo

মলিবডেনাম

৪৩

Tc

টেকনেশিয়াম

৪৪

Ru

রুথেনিয়াম

৪৫

Rh

রোডিয়াম

৪৬

Pd

প্যালাডিয়াম

৪৭

Ag

রূপা

৪৮

Cd

ক্যাডমিয়াম

৪৯

In

ইন্ডিয়াম

৫০

Sn

টিন

৫১

Sb

অ্যান্টিমনি

৫২

Te

টেলুরিয়াম

৫৩

I

আয়োডিন

৫৪

Xe

জেনন

৫৫

Cs

সিজিয়াম

৫৬

Ba

বেরিয়াম

৫৭

La

ল্যান্থানাম

৫৮

Ce

সিরিয়াম

৫৯

Pr

প্রাসিওডিমিয়াম

৬০

Nd

নিওডিমিয়াম

৬১

Pm

প্রমিথিয়াম

৬২

Sm

স্যামারিয়াম

৬৩

Eu

ইউরোপিয়াম

৬৪

Gd

গ্যাডোলিনিয়াম

৬৫

Tb

টার্বিয়াম

৬৬

Dy

ডিস্প্রোসিয়াম

৬৭

Ho

হলমিয়াম

৬৮

Er

ইরবিয়াম

৬৯

Tm

থুলিয়াম

৭০

Yb

ইটারবিয়াম

৭১

Lu

লুটেশিয়াম

৭২

Hf

হাফনিয়াম

৭৩

Ta

ট্যানটালাম

৭৪

W

টাংস্টেন

৭৫

Re

রেনিয়াম

৭৬

Os

অসমিয়াম

৭৭

Ir

ইরিডিয়াম

৭৮

Pt

প্লাটিনাম

৭৯

Au

সোনা

৮০

Hg

পারদ

৮১

Tl

থ্যালিয়াম

৮২

Pb

সীসা

৮৩

Bi

বিসমাথ

৮৪

Po

পোলোনিয়াম

৮৫

At

অ্যাস্টাটিন

৮৬

Rn

রেডন

৮৭

Fr

ফ্রান্সিয়াম

৮৮

Ra

রেডিয়াম

৮৯

Ac

অ্যাক্টিনিয়াম

৯০

Th

থোরিয়াম

৯১

Pa

প্রোট্যাক্টিনিয়াম

৯২

U

ইউরেনিয়াম

৯৩

Np

নেপচুনিয়াম

৯৪

Pu

প্লুটোনিয়াম

৯৫

Am

আমেরিসিয়াম

৯৬

Cm

কুরিয়াম

৯৭

Bk

বার্কেলিয়াম

৯৮

Cf

ক্যালিফোর্নিয়াম

৯৯

Es

আইনস্টাইনিয়াম

১০০

Fm

ফার্মিয়াম

১০১

Md

মেন্ডেলিভিয়াম

১০২

No

নোবেলিয়াম

১০৩

Lr

লরেন্সিয়াম

১০৪

Rf

রাদারফোর্ডিয়াম

১০৫

Db

ডুবনিয়াম

১০৬

Sg

সিবোর্গিয়াম

১০৭

Bh

বোহরিয়াম

১০৮

Hs

হ্যাসিয়াম

১০৯

Mt

মেইটনেরিয়াম

১১০

Ds

ডার্মস্টাটিয়াম

১১১

Rg

রন্টজেনিয়াম

১১২

Cn

কোপার্নিসিয়াম

১১৩

Nh

নিহোনিয়াম

১১৪

Fl

ফ্লেরোভিয়াম

১১৫

Mc

মস্কোভিয়াম

১১৬

Lv

লিভারমোরিয়াম

১১৭

Ts

টেনেসাইন

১১৮

Og

অগানেসন

এন্টনি লরেন্ট ল্যাভোশিয়ে ( ১৭৪৩-১৭৯৪)

  এন্টনি লরেন্ট ল্যাভোশিয়ে ( ১৭৪৩-১৭৯৪)  অঁতোয়ান-লোরঁ দ্য লাভোয়াজিয়ে  (ফরাসি ভাষায়: Antoine-Laurent de Lavoisier); ২৬ আগস্ট ১৭৪৩ – ৮ মে...