Wednesday, June 19, 2024

এন্টনি লরেন্ট ল্যাভোশিয়ে ( ১৭৪৩-১৭৯৪)

 এন্টনি লরেন্ট ল্যাভোশিয়ে ( ১৭৪৩-১৭৯৪) 

অঁতোয়ান-লোরঁ দ্য লাভোয়াজিয়ে (ফরাসি ভাষায়: Antoine-Laurent de Lavoisier); ২৬ আগস্ট ১৭৪৩ – ৮ মে ১৭৯৪;বা অ্যান্তনি ল্যাভয়সিয়ে ছিলেন একজন ফরাসি অভিজাত এবং রসায়নবিদ। তিনি আঠারো শতকের রসায়ন বিপ্লবের একজন কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে তার বড়ো প্রভাব আছে। তাকে প্রায়ই "আধুনিক রসায়নের জনক" হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। 

রসায়নে অবদান

এটা সাধারণভাবে স্বীকৃত যে রসায়নবিদ্যায় লাভোয়াজিয়ের শ্রেষ্ঠ অবদানগুলির পেছনে মূল কারণ হচ্ছে তিনি রসায়নকে একটি গুণগত (qualitative) বিজ্ঞান থেকে পরিমাণগত (quantitative) বিজ্ঞানে রূপান্তরিত করেন। লাভোয়াজিয়ে যে আবিষ্কারটির জন্য সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত, সেটি হলো দহন বিক্রিয়ায় অক্সিজেনের ভূমিকা নির্ধারণ। তিনিই অক্সিজেন (১৭৭৮) এবং হাইড্রোজেন (১৭৮৩) শনাক্ত ও নামকরণ করেন এবং ফ্লজিস্টন তত্ত্বের বিরোধিতা করেন। তিনি পরিমাপের মেট্রিক পদ্ধতি সৃষ্টিতে সহায়তা করেন। তিনিই সর্বপ্রথম মৌলসমূহের একটি বিস্তৃত পর্যায় সারণি নির্মাণ করেন। এছাড়া তিনি রাসায়নিক পদার্থের নামকরণের নীতিগুলির সংস্কার সাধনে সাহায্য করেন। ১৭৮৭ সালে তিনি সিলিকনের অস্তিত্ব নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন।[৫] তিনিই প্রথম গন্ধক (সালফারকে) যৌগ নয়, বরং একটি মৌলিক পদার্থ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।[৬] তিনি আবিষ্কার করেন যে, যদিও পদার্থ তার আকৃতি বা গঠন পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু তার ভর সবসময় একই থাকে

অভিজাত হিসেবে ভূমিকা

লাভোয়াজিয়ে ফ্রান্সের বেশ কিছু অভিজাত পরিষদের ক্ষমতাধর সদস্য ছিলেন। তিনি "ফের্ম জেনেরাল" নামক সংস্থার প্রশাসক ছিলেন, কিন্তু এ সংস্থাটি "অঁসিয়াঁ রেজিম" বা ফ্রান্সের তৎকালীন রাজতন্ত্রের সবচেয়ে ঘৃণ্য একটি অংশ ছিল, কেননা এটি সরকার থেকে অনেক বেশি লাভ নিত। এর চুক্তিগুলি ছিল অত্যন্ত গোপন এবং এর অস্ত্রধারী দালালরা খুবই জোরজবরদস্তি চালাত।[৭] এই সমস্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড লাভোয়াজিয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণার অর্থসংস্থানে সাহায্য করত। ফরাসি বিপ্লবের চরম পর্যায়ে জঁ-পল মারা তাকে ভেজাল তামাক বিক্রির দায়ে অভিযুক্ত করেন, এবং মারা-র মারা যাবার এক বছর পরেই লাভোয়াজিয়েকে বিচার করে গিলোটিনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বক্সাইট

বক্সাইট 

বক্সাইট হতে অ্যালুমিনিয়াম তৈরি করা হয় । এক খনি হতে উত্তোলন করা হয়।

উইকিপিডিয়া লিংক:

https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%9F

Tuesday, June 18, 2024

সীসা (Lead)

সীসা (Lead)

সীসা হল একটি মৌলিক পদার্থ যার রাসায়নিক সংকেত Pb এবং পরমানবিক সংখ্যা ৮২। সীসা নরম ধাতু যা ছুরির সাহায্যে কাটা যায়। এটি ঈষৎ নীলাভ ধূসর বর্ণের ধাতু যা কাগজের উপর ঘষলে কালো দাগ কাটে। সীসা কম সক্রিয় ধাতু এবং সক্রিয়তা ক্রমে এর অবস্থান হাইড্রোজেনের ঠিক উপরে।

সীসা

সীসা ইমারত নির্মানে, সীসা-অম্ল ব্যাটারী, গুলি(বুলেট), বিকিরন ঢাল, ওজন ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। সকল স্থায়ী মৌলিক পদার্থের মধ্যে সীসার রয়েছে সর্বোচ্চ পারমাণবিক সংখ্যা। যদিও পরবর্তী সর্বোচ্চ পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট মৌল বিসমাথের (Bi) অর্ধ জীবন সীসার চেয়ে অনেক বেশি তার পরও এটাকে স্থায়ী হিসেবে ধরা যায়।


Thursday, June 13, 2024

নাইট্রোজেন (Nitrozen)

 নাইট্রোজেন একটি মৌল বা মৌলিক পদার্থ যার বাংলা নাম যবক্ষারজান। লিকুইড নাইট্রোজেনের তাপমাত্রা মাইনাস ১৯৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস (–195⁰) । এই মৌলিক পদার্থের প্রতীক N  পারমাণবিক সংখ্যা ৭।, বিশুদ্ধ নাইট্রোজেন স্বাভাবিক অবস্থায় বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদবিহীন। নাইট্রোজেন একটি নিষ্ক্রিয় ধরনের দ্বিপরমাণুক গ্যাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আয়তনের হিসাবে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ৭৮.০৯ শতাংশ।এর যোজনী ৩,৫(উদাহরণ N3H[৩])। যোজনী ইলেকট্রন ৫৷

নাইট্রোজেন প্রথম আবিষ্কার করেন রাদারফোর্ড ১৭৭২ সালে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে স্কটিশ পদার্থবিদ ড্যানিয়েল রাদারফোর্ড এটিকে বায়ু থেকে আলাদা করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তিনি এর নাম দেন নক্সাস এয়ার বা ফিক্সড এয়ার[৪][৫] রাদারফোর্ড বুঝতে পারেন যে এটি বাতাসের একটি উপাদান এবং এটি দহন বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না।

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

নাইট্রোজেন একটি অধাতু, যার তড়িৎ ঋণাত্মকতা ৩.০৪।[৬] নাইট্রোজেন পরমাণুর বহিস্থ কক্ষপথে ৫টি ইলেক্ট্রন বিদ্যমান এ কারণে অধিকাংশ যৌগে এটি ত্রিযোজী। নাট্রোজেন অণুতে (N
2
) বিদ্যমান ত্রিবন্ধন শক্তিশালী বন্ধনসমুহের মধ্যে একটি। ফলে (N
2
) অণুকে অন্যান্য যৌগে পরিণত করা বেশ কষ্টসাধ্য এবং অন্যান্য নাইট্রোজেনের বিভিন্ন যৌগ থেকে N
2
 উৎপাদন সহজসাধ্য। এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ৭৭ K (−১৯৫.৭৯ °C) নাট্রোজেন ঘনীভূত হলে তরলে রূপ পরিগ্রহণ করে এবং ৬৩ K (−২১০.০১ °C) তাপমাত্রায় কঠিন স্ফটিকে পরিণত হয়।[৭]

: 15 সেকেন্ড।

অতি উচ্চ চাপ (১.১ মিলিয়ন বায়ুচাপে) এবং উচ্চ তাপমাত্রায় (২০০০ K) নাইট্রোজেন পলিমারকরণ প্রকৃয়ায় একক বন্ধনবিশিষ্ট ঘনকআকৃতির গশে স্ফটিকের পরিগ্রহ করে। তখন একে হীরার মতো দেখায়। এটি তখন হীরার মতোই শক্ত সমযোজী বন্ধন যুক্ত। এ কারণে একে নাইট্রোজেন ডায়মন্ড বলা হয়ে থাকে।[৮]

যৌগসমূহ[সম্পাদনা]

নাইট্রোজেনের প্রধান হাইড্রাইড হল অ্যামোনিয়া (NH3); আয়নিত অবস্থায় অ্যামোনিয়া মূলত অ্যামোনিয়ামরুপে বিদ্যমান থাকে। হাইড্রাজিন (N2H4) হল নাইট্রোজেনের অপর হাইড্রাইড যা সব চাইতে বেশি ব্যবহৃত হয়। অ্যামোনিয়া পানির চেয়ে ছয় গুন বেশি ক্ষারীয়।

রাসায়নিক বিক্রিয়া[সম্পাদনা]

নাইট্রোজেন গ্লো

সাধারণ অবস্থায় নাইট্রোজেন তেমন কোন বিক্রিয়া দেখায় না, এটি কার্যত একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো আচরণ করে। প্রকৃতপক্ষে নাইট্রোজেনের অণুতে দুটি নাইট্রোজেন পরমাণুর মধ্যে ত্রিবন্ধন অত্যন্ত শক্তিশালী,তাই এর বন্ধন বিয়োজন এনথ্যালপির মান উচ্চ (941.4 kJ/mol)।তবে উচ্চ তাপমাত্রার শর্তে ইহা সক্রিয় ধাতু,অধাতু এবং অ্যালুমিনা,ক্যালসিয়াম কার্বাইড প্রভৃতি যৌগের সঙ্গে বিক্রিয়া করে।

ব্যবহার[সম্পাদনা]

গ্যাসীয় নাট্রোজেন[সম্পাদনা]

নাইট্রোজেনের বহুবিধ ব্যবহার আছে। নিষ্ক্রীয় বিধায় এটি বাতাসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেখানে জারণ বিক্রিয়া এড়ানো প্রয়োজন। শস্যাগারে শস্য মজুদ রাখতে,ভেসেলে,সিল করা প্যাকেটের মধ্যে নাইট্রোজেন গ্যাসের পূর্ণ থাকে।

তরল নাইট্রোজেন[সম্পাদনা]

ড্যানিয়েল রাদারফোর্ড,নাইট্রোজেনের আবিষ্কারক

ড্রাই আইসের মত তরল নাইট্রোজেনের প্রধান ব্যবহার হিমায়ক হিসেবে।

রুপা (Silver)

 রুপা (Silver):

পিতল

 পিতল: 

পিতল হচ্ছে দস্তা (Zinc) ২০% এবং তামা (Copper) ৮০% এর সংমিশ্রণে তৈরী একটি মিশ্র ধাতু। 

কাঁসা

কাঁসা:

কাঁসা হচ্ছে রাং/টিন (Tin) এবং তামা (Copper) এর সংমিশ্রণে তৈরী একটি মিশ্র ধাতু । 

স্বর্ণ (Gold)

 স্বর্ণ (Gold): 

আসল-নকল সোনা চেনার সহজ উপায়

অ্যাসিড টেস্ট : আসল স্বর্ণ নাইট্রিক অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। এটি অবশ্য তামা, দস্তা, স্টার্লিং সিলভার ইত্যাদির মতো অন্যান্য মিশ্রণের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। অল্প পরিমাণ নাইট্রিক অ্যাসিড ড্রপারের সাহায্যে গহনার ওপর ফেলুন। যেখানে অ্যাসিড পড়ল সেই জায়গাটি সবুজ হয়ে গেলে বুঝবেন সেটি আসল স্বর্ণ নয়।

পানি দিয়ে পরীক্ষা : একটি বড় গামলায় দুই গ্লাস পানি নিন। তাতে কিনে আনা সোনার গয়না ফেলে দেখুন সেটা ভাসছে কিনা। যদি ভাসে তা হলে বুঝতে হবে সেটা নকল। খাঁটি সোনা জলে তাড়াতাড়ি ডুবে যায়।

চুম্বক পরীক্ষা : স্বর্ণ খাঁটি নাকি অন্য কোনো ধাতু মেশানো আছে সেটা জানার আরও একটা সহজ পদ্ধতি হল চুম্বকের সাহায্যে পরীক্ষা করা। এবার আপনার কেনা স্বর্ণের গহনা চুম্বকের কাছাকাছি নিয়ে যান। যদি দেখেন যে সোনা চুম্বকের সঙ্গে আটকে যাচ্ছে না তাহলে বুঝবেন যে স্বর্ণ খাঁটি। কারণ চুম্বক সোনাকে আকৃষ্ট করে না।

​চিনামাটির প্লেট : একটি চিনামাটি বা সেরামিকের প্লেট নিন। এবার তার ওপর দিয়ে স্বর্ণের বাট, কয়েন বা গয়না যেটাই কিনে থাকুন, সেটি আস্তে আস্তে ঘষুন। যদি দেখেন প্লেটের ওপর কালচে দাগ পড়ছে তাহলে বুঝবেন যে স্বর্ণ কিনেছেন সেটি আসল নয়।

ভিনিগার টেস্ট

এই পরীক্ষাটি একটি জনপ্রিয় রান্নাঘরের আইটেম ভিনিগার ব্যবহার করে করা হয়। আপনার সোনার টুকরোতে কয়েক ফোটা ভিনিগার ফেলে দিন। ফোটা যদি ধাতুর রঙ পরিবর্তন করে তবে এটি আসল সোনা নয়। আসল সোনা হলে ভিনিগার দিলেও গয়নার রং পরিবর্তন হবে না।

Monday, June 10, 2024

হিলিয়াম (Hilium)

 হিলিয়াম (Hilium)

হিলিয়াম (ইংরেজিHeliumগ্রিক: ἥλιος হ্যালিওস্‌ "সূর্য" থেকে) পর্যায় সারণির ২য় মৌল। এর প্রতীক He। এটি পর্যায় সারণি ১ম পর্যায়ের শূন্য গ্রুপ-২ এ অবস্থিত। ভরের দিক দিয়ে এটি দ্বিতীয় হালকা মৌলিক পদার্থ। একমাত্র হাইড্রোজেন এর চেয়ে হালকা। হিলিয়াম একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং স্বাদহীন নিষ্ক্রিয় গ্যাস। এই মৌলিক পদার্থের পারমাণবিক সংখ্যা ২।

হাইড্রোজেন (Hydrozen)

হাইড্রোজেন (Hydrozen)

হাইড্রোজেন (H) বা উদযান সবচেয়ে হালকা মৌলিক পদার্থ। এটি পর্যায় সারণীর প্রথম রাসায়নিক মৌল। এর পারমাণবিক সংখ্যা ১ ও প্রতীক H। প্রাচীন গ্রিক শব্দ ύδρο- ইদ্রো- অর্থ "জল" বা "পানি" ("উদ-") ও γενης গেনেস অর্থ "উৎপাদক" ("জনক") থেকে এর হুদ্রোগেন (ইংরেজিতে হাইড্রোজেন) নামকরণ।ল্যাটিনে এর নাম Hydrogenium(ইদ্রোজেনিউম)। হাইড্রোজেন হল পর্যায় সারণির সবচেয়ে হালকা মৌল। এটি মহাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এমন রাসায়নিক পদার্থ। এর কারণ এটি মহাবিশ্বের সৃষ্টির সময় তৈরি হওয়া প্রথম মৌল। আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে হাইড্রোজেন বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন, অধাতব এবং খুবই দাহ্য দ্বিপরমাণুক গ্যাস (H2)। এই গ্যাস জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এর সাহায্যে গাড়ী চালানো যায়।

হাইড্রোজেনের ৩টি আইসোটোপ রয়েছে - ১.প্রোটিয়াম ২.ডিউটেরিয়াম বা ডয়টেরিয়াম ৩.ট্রিটিয়াম। হাইড্রোজেন পরমাণুতে ১টি মাত্র ইলেকট্রন থাকে, যা নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘোরে ।

সূর্যে ৫৫ ভাগ হাইড্রোজেন থাকে। এই হাইড্রোজেন আণবিক শক্তির দ্বারা হিলিয়ামে পরিণত হয় এবং সূর্যে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়।

হাইড্রোজেন দিয়ে গঠিত সবচেয়ে সহজ পদার্থ হলো পানি। এক অনু পানি দুই পরমাণু হাইড্রোজেন ও এক পরমাণু অক্সিজেন দিয়ে গঠিত।

আবিষ্কারের ইতিহাস[সম্পাদনা]

রুশ রসায়নবিদ দিমিত্রি মেন্ডেলিভ এক সময় হাইড্রোজেনকে পর্যায় সারণীর বৈশিষ্ট্যমূলক মৌলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। 

হাইড্রোজেন প্রস্তুতকরণ: হাইড্রোজেন প্রস্তুত করা খুব সহজ। সাধারণ পরীক্ষাগারে দস্তার উপর সালফিউরিক অ্যাসিড ঢেলে এটি প্রস্তুত করা যায়।

তাই এটি আবিষ্কার করতে বিলম্ব হওয়ার কথা নয়। রসায়ন যখন বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি তখনও এটি তৈরির সকল উপাদান মানুষের জানা ছিল। যেমন, হাইড্রোক্লোরিক, সালফিউরিক ও নাইট্রিক অ্যাসিড এবং লোহা ও দস্তা সম্বন্ধে মানুষ অনেক আগে থেকেই জানত। কিমিয়াবিদরা এগুলো নিয়ে গবেষণাও করতেন। কিন্তু ঠিক যেভাবে হাইড্রোজেন উৎপাদিত হবে তার জন্য একটি সুযোগের প্রয়োজন ছিল। ষোড়শ এবং অষ্টাদশ শতকের কিছু গবেষণার বিবরণ থেকে জানা যায় লোহার ছিল্কার উপর অ্যাসিড ঢেলে দিলে সেখান থেকে যে বাতাসের বুদ্বুদ বের হত তা তখনকার অনেকেই লক্ষ্য করেছিলেন। তারা একে বাতাসের একটি দাহ্য রূপ বলে মনে করতেন।

হাইড্রোজেন বর্ণালি





সতর্কভাবে যারা এটি লক্ষ্য করেছিলেন তাদের মধ্যে রুশ বিজ্ঞানী মিখাইল ভাসিলিয়েভিচ লোমোনোসোভ অন্যতম। 

১৭৪৫ খ্রিষ্টাব্দে "ধাতুর ঔজ্জ্বল্যের প্রতি" নামক গবেষণাপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, "লোহার মত বিশেষ ধাতুগুলো অ্যাসিডে দ্রবীভূত হওয়ার সময় ফ্লাস্কের মুখ দিয়ে জ্বলনশীল বাষ্প নির্গত হয়.."লোমোনোসোভ হাইড্রোজেনই লক্ষ্য করেছিলেন, কিন্তু তখনকার বিশ্বাসকে অনুসরণ করেই তিনি একে ফ্লোজিস্টন আখ্যা দেন। অ্যাসিডে ধাতু দ্রবীভূত হলে দাহ্য বাষ্প নির্গত হয় যা ফ্লোজিস্টন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি এবং এটি ফ্লোজিস্টন তত্ত্বের সাথেও সুন্দর খাপ খেয়ে গিয়েছিল। রসায়নবিদরা কখন এই দাহ্য বাতাস পর্যবেক্ষণ শুরু করেন তা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও ১৭৬৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রকে এর স্বাভাবিক সূচনা হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে। জে ব্ল্যাকের অনুপ্রেরণায় প্রকাশিত সেই প্রবন্ধটির নাম ছিল "কৃত্রিম বাতাস নিয়ে পরীক্ষাসমূহ"। 

এ সময় ইংরেজ বিজ্ঞানী হেনরি ক্যাভেন্ডিশ আবদ্ধ গ্যাস নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা শুরু করেন। আবদ্ধ বলতে বিভিন্ন যৌগে আবদ্ধ বোঝানো হচ্ছে। বিক্রিয়ার মাধ্যমে যৌগ থেকে তাদের মুক্ত করা যায়। দাহ্য বাতাসের বিষয়টি ক্যাভেন্ডিশ জানতেন এবং তিনিও সেখান থেকেই গবেষণা শুরু করেন। 

লোহা, দস্তা ও টিনের সাথে হাইড্রোক্লোরিক বা সালফিউরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়া ঘটিয়ে বিভিন্ন সময় দাহ্য বাতাস প্রস্তুত করেন এবং সবগুলোর বৈশিষ্ট্যই এক বলে বুঝতে পারেন। তবে তিনিও এই গ্যাসগুলোকে ফ্রোজিস্টন বলে আখ্যায়িত করেন এবং সে তত্ত্বের অনুগামী থেকেই উৎপন্ন পদার্থের স্বরূপ ব্যাখ্যা করেন। জে ব্ল্যাকের দাহ্য বাতাস ও ক্যাভেন্ডিশের বদ্ধ বাতাস, সবই আগে থেকে জানা ছিল। তবে তারা একটি সারমর্ম দাঁড় করাতে সক্ষম হন যা রসায়ন বিজ্ঞানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

হাইড্রোজেন বর্ণালি পরিক্ষা

দাহ্য বাতাস ও বদ্ধ বাতাস উভয়ে সাধারণ বাতাস থেকে এবং একে অন্যের থেকে পৃথক ছিল। দাহ্য বাতাস অবিশ্বাস্য রকমের হালকা ছিল। আর ক্যাভেন্ডিশ আবিষ্কৃত বদ্ধ বাতাসের ভর ছিল। একে ক্যাভেন্ডিশ ফ্লোজিস্টন বলেছিলেন, অথচ ফ্লোজিস্টনের কোন ধনাত্মক ভর থাকতে পারেনা। এখানেই নিজের পূর্বতন গবেষণার সাথে তিনি বিরোধে লিপ্ত হন। ক্যাভেন্ডিশই প্রথম সাধারণ বাতাসের ঘনত্ব "১" ধরে নিয়ে দাহ্য বাতাস ও বদ্ধ বাতাসের ঘনত্ব বের করেন যাদের মান এসেছিল যথাক্রমে ০.০৯ ও ১.৫৭। আবার দাহ্য বাতাস হারানোর পর ধাতুগুলোও কিছু ভর হারায়। সেক্ষেত্রে এটিও ফ্লোজিস্টন হতে পারেনা। পরস্পর বিরোধী এসব তত্ত্বের সমাধানের জন্য ক্যাভেন্ডিশ বলেন, ফ্লোজিস্টন ও জলের মিলনের মাধ্যমে দাহ্য বাতাস উৎপন্ন হয়। বোঝাই যায়, তার সেই দাহ্য বাতাস গঠন করতে গিয়ে পরিশেষে হাইড্রোজেন উৎপাদিত হয়। ক্যাভেন্ডিশ মূলত বদ্ধ বাতাসের সাথে দাহ্য বাতাসকে যুক্ত করেছিলেন। এসবই ১৭৬৬ সালের কাহিনী।

উৎপাদন[সম্পাদনা]

হাইড্রোজেন উৎপাদনের অনেকগুলি পদ্ধতি রয়েছে।

জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ[সম্পাদনা]

হাইড্রোজেন উৎপাদনের সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি হলো জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ। একটি নিম্ন বিভব-কারেন্ট জলের মধ্য দিয়ে পরিবহণ করানো হয়। ফলে গ্যাসীয় অক্সিজেন অ্যানোডে ও গ্যাসীয় হাইড্রোজেন ক্যাথোডে জমা হয়। সাধারণত ক্যাথোডটি প্ল্যাটিনাম দন্ডের হয়ে থাকে।



সামগ্রিক বিশ্লেষণ:-




এন্টনি লরেন্ট ল্যাভোশিয়ে ( ১৭৪৩-১৭৯৪)

  এন্টনি লরেন্ট ল্যাভোশিয়ে ( ১৭৪৩-১৭৯৪)  অঁতোয়ান-লোরঁ দ্য লাভোয়াজিয়ে  (ফরাসি ভাষায়: Antoine-Laurent de Lavoisier); ২৬ আগস্ট ১৭৪৩ – ৮ মে...